যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী ব্যবসায় প্রসারের মূল সূত্র। এই বিক্রয়কর্মীর দক্ষতা ও গুণের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়ের পরিমাণ কত হবে। ব্যবসায়ের পণ্য বা সেবা বিক্রি করাই একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মীর কাজ। একজন বিক্রয়কর্মীকে তাই চটপটে, বিচক্ষণ ও দক্ষতায় সেরা হতে হবে। একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মী হতে হলে অর্জন করতে হবে বিশটি গুণ। কি সে সব গুণ। বিক্রয়কর্মীর আবশ্যকীয় ২০ গুণাবলীর কথা জানানো হচ্ছে এই লেখায়…
এক নম্বরে একজন বিক্রয়কর্মীকে দোকানের আপডেট স্টক এবং বিদ্যমান পণ্যের সঠিক মূল্য সম্পর্কে জানতে হবে। ক্রেতাকে তার প্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা দিতে সাথে সাথে এর সম্পর্কে জানাতে হবে। বিক্রয়কর্মীকে জানতে হবে এ সব পণ্যের মূল্য ও সঠিক গুণাগুণ সম্পর্কেও।
দ্বিতীয়ত পণ্য ক্যাটাগরি ওয়াইজ সাজানো রাখতে হবে একজন বিক্রয়কর্মীকে। কোথায় কি পরিমাণ ও কোন পণ্য কোথায় আছে সেগুলো জানতে হবে।
তৃতীয়ত একজন বিক্রয়কর্মীকে সবসময় হাসিমুখে থাকতে হবে। ক্রেতার সঙ্গে সাবলিলভাবে সুন্দরভাবে কথা বলতে হবে। ক্রেতা আপত্তিকর কথা বললেও কোনো প্রকার উত্তেজিত হওয়া যাবেনা। যেমন ক্রেতা যদি বলে আপনার দোকানে দাম বেশি রাখা হয়, পণ্যের মান ভালো না, এরপরও হাসিমুখে সঠিকভাবে পণ্যের গুনাগুন সম্পর্কে বুঝিয়ে বলতে হবে।
চতুর্থত একজন বিক্রেতাতে ক্রেতার সামনে ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে। ক্রেতার সামনে বিক্রেতার কখনই মোবাইলে কথা বলা উচিত না। এছাড়া মুখে চকলেট বা চুইংগাম রেখে চাবানো যাবেনা। রাখা যাবেনা কানে হেডফোন। একজন ক্রেতাকে সর্বোচ্চ গুরত্ব দিতে হবে।
পঞ্চমত একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মীর পোশাক-পরিচ্ছেদ সুন্দর হতে হবে। নোংরা, কুচকানো শার্ট-প্যান্ট পড়া যাবেনা। থাকা যাবেনা মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। পরিস্কার থাকতে হবে তার জুতা জোড়াটাও।
ছয় নম্বরে পণ্য বিক্রি করতেই হবে এমন চিন্তা থেকে অনেক বিক্রয়কর্মী পণ্যের অতিরিক্ত গুণাগুণ বর্ণনা করে। এটা করা যাবেনা। ক্রেতার দৃষ্টিভঙ্গিকে বুঝে নিজের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
সাত নম্বরে ক্রেতার কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। কথার মাঝে কথা বলা যাবেনা। অতিরিক্ত কথা বলা যাবেনা। এতে ক্রেতা বিরক্ত হতে পারে।
আট নম্বরে কনজুমার অফার থাকলে সেটি ক্রেতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মীতে কৌশলী হতে হবে।
নয় নম্বরে সব কোম্পানির সমজাতীয় পণ্য ক্রেতাকে দেখাতে হবে। এতে ক্রেতা হাতছাড়া হওয়ার সম্ভবনা কম হবে।
দশ নম্বরে শুরুতে ক্রেতাকে বসতে বলা। আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এগার নম্বরে ক্রেতার চাহিদাকে সম্মান দিতে হবে একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মীকে। তিনি নিদিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের প্রতি দুর্বল থাকতে পারে, কিন্তু ওই ব্র্যান্ড যদি আপনার প্রতিষ্ঠানে না থাকে তবে অন্য ব্র্যান্ড কিনতে ক্রেতাকে জোড়াজোড়ি করা যাবে না।
বার নম্বরে কোনো অফার থাকলে ক্রেতার জন্য সেটা তুলে ধরতে হবে। ক্যাশ ডিসকাউন্ট, র্যাফেল ড্র ইত্যাদি সম্পর্কে ক্রেতাকে অবহিত করতে হবে।
তের নম্বরে ক্রেতার সাথে গুছিয়ে কথা বলা একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মীর অন্যতম গুণ। ক্রেতার সঙ্গে নেগেটিভ কিছু বলা যাবে না। নিজে ক্রেতা হলে কেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন সেটি একজন ক্রেতার সঙ্গে করুন।
চৌদ্দ নম্বর গুণ ক্রেতা হয়তো অনেক পণ্য দেখে যেমন তেমন দাম বলে চলে গেলেন। কিন্তু এতে একজন বিক্রয়কর্মী বিরক্ত হবেন না। কারণ এই ক্রেতাই মাকের্ট ঘুরে আবার ফিরে আসতে পারেন আপনার প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিনতে বা সেবা নিতে।
পনের নম্বরে আপনার দোকানের বিক্রিত পণ্য ফেরত নেয়া হয় কিনা এ ব্যপারে খোলাখুলি ক্রেতাকে বলতে হবে।
ষোল নম্বরে ক্রেতাকে পণ্য বা সেবা বুঝিয়ে দিলেন, কিন্তু তাকে কনজ্যুমার অফার বুঝিয়ে দিলেন না এমনটা করা যাবেনা। কারণ পরে যদি ক্রেতা জানে অফার ছিলো, আপনি তাকে দেননি এটি ব্যবসায়ে নেগেটিভ ইফেক্ট তৈরি হবে।
সতের নম্বরে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বিক্রির স্বার্থে দোকানে রাখতে হবে। ক্রেতার চাহিদার সাথে মিলে রেখে প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা সাজিয়ে রাখতে হবে। তবে ক্রেতার সঙ্গে কোনো অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা যাবে না।
আঠার নম্বরে কম বিক্রি হয় এমন পণ্য অন্য কোথাও তেমন পাওয়া যায় না, এমন পণ্য কিছু রাখতে হবে নিজের প্রতিষ্ঠানে। যাতে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা যায়।
উনিশতম গুণ হচ্ছে দোকানে ফিফো ম্যাথোড (ফাস্ট ইন ফাস্ট আউট) ফলো করতে হবে। একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মী হিসাবে আগের পণ্য আগে বিক্রি ও পরের পণ্য পরে বিক্রি করা উচিত। কোন পণ্যের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে এ সম্পর্কে জানতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে।
সর্বশেষ গুণ সম্পর্কে বলা যায়, ক্রেতার সুবিধা অনুযায়ী অনেক সময় কম লাভ করে হলেও ক্রেতাকে ধরে রাখতে স্বল্পমূল্যে পণ্য বা সেবা দিতে হবে একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মীকে।
⇒ আরও ক্যারিয়ার টিপস পেতে এখানে ক্লিক করুন