প্রত্যেক দেশের একটি জাতীয় প্রতীক থাকে। বাংলাদেশেরও আছে। আজকে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক সম্পর্কিত সকল তথ্য জানবো …
জাতীয় প্রতীক আসলে কী : একটি দেশের রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার ও কর্মপরিধির অন্যতম স্মারক চিহ্ন।
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক : ‘প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা৷’ (সুত্র : বাংলাদেশের সংবিধান)
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা আছে : প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)।
রূপকার ও ডিজাইনার : কামরুল হাসান।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদ্যেপান্ত
ইতিহাস : স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিল্পী কামরুল হাসানকে দেশের জাতীয় প্রতীক ও বিভিন্ন মনোগ্রাম তৈরির দায়িত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগ দেন নকশাবিদ ও ভাষা আন্দোলন কর্মী মোহাম্মদ ইদ্রিসসহ আরও বেশ কয়েকজন। মোহাম্মদ ইদ্রিস আঁকেন ভাসমান একটি শাপলা, শিল্পী শামসুল আলম শাপলার দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা আঁকেন। কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত হয় : ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সভায়।
⇒ সর্বশেষ চাকরির খবর জানতে ক্লিক করুন এখানে
জাতীয় প্রতীকের আঙ্গিক তাৎপর্য : জাতীয় প্রতীকে পানি, ধান ও পাটের চিহ্ন ব্যবহারের তাৎপর্য হচ্ছে- এ তিনটি বাংলাদেশের নিসর্গ, প্রকৃতি ও অর্থনীতির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এতে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এই তিনটি উপাদানের উপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক। আর তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাক্মখা। এ আকাক্মখা আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক অভীষ্ট লক্ষ্যের।
এছাড়াও চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতিকে (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) নির্দেশ করা হয়েছে।
জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের অধিকারী কে কে : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
⇒ সর্বশেষ চাকরির খবর জানতে ক্লিক করুন এখানে
অনুমোদন -২৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৭২ হবে