বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। স্বাধীনতার পর যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য কয়েকশ’ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে খেতাব প্রদান করা হয়। এবার পাঠকদের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সকল তথ্য তুলে ধরছি।
১. স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য মোট কতজনকে রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদান করা হয়?
— ৬৭৬ জনকে।
২. মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয় কতটি ও কি কি?
— ৪টি (বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতীক।)
৩. স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য (সর্বোচ্চ খেতাব) ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি লাভ করেন কতজন?
— ৭ জন। (সকলেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন)।
৪. স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীরউত্তম’ উপাধি লাভ করেন কতজন?
— ৬৮ জন।
আরও পড়ুন : মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টরের সীমানা, সদর দপ্তর ও সেক্টর কমান্ডারদের নাম
৫. স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীরবিক্রম’ উপাধি লাভ করেন কতজন?
— ১৭৫ জন।
৬. স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীরপ্রতীক’ উপাধি লাভ করেন কতজন?
— ৪২৬ জন।
৭. মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করা হয় কবে?
– ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩
এবার জেনে নেই স্বাধীনতার যুদ্ধের ৭ বীরশ্রেষ্ঠের নাম, জন্ম-মৃত্যুর তারিখ, জন্মস্থান ও তাদের কবর / সমাধি সম্পর্কে
১. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (২৯ অক্টোবর ১৯৪১ – ২০ আগস্ট ১৯৭১)। জন্মস্থান: ঢাকা। কবর : পাকিস্তানের করাচির মাগরুর বিমান ঘাঁটিতে ছিল। বর্তমানে ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।
২. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ (২৬ ফেব্রুয়ারী, ১৯৩৬ – ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১)। জন্মস্থান: নড়াইল। কবর : যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে।
৩. স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রুহুল আমিন (১৯৩৫ – ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১)। জন্মস্থান: নোয়াখালী। কবর : খুলনা জেলার রূপসা নদীর তীরে বাগমারা নামক গ্রামে। (অনেকের মতে, মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাই তার কোন সমাধি নেই।)
৪. সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭ – ১৮ এপ্রিল ১৯৭১)। জন্মস্থান: ভোলা। কবর : ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।
৫. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (৭ মার্চ ১৯৪৯ – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১)। জন্মস্থান: বরিশাল। কবর : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে
৬. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ (৮ মে ১৯৪৩ – ৮ এপ্রিল ১৯৭১) । জন্মস্থান: ফরিদপুর। কবর : রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট এক দ্বীপে।
৭. সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান (২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ – ২৮ অক্টোবর ১৯৭১)। জন্মস্থান: ফঝিনাইদহ (পূর্বতন যশোর)। কবর : ভারতের আমবাসা এলাকায় ছিল, বর্তমানে ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।
* বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ হন কে?
— সিপাহী (সেনাবাহিনী) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। (১৮ এপ্রিল, ১৯৭১)
* ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে কতজন কোন বাহিনীর ছিলেন?
— ৩ জন সেনাবাহিনী, ২ জন ইপিআর, (বি.ডি.আর), ১ জন নৌবাহিনী ও ১ জন বিমান বাহিনী।
৮. কোন নারী মুক্তিযোদ্ধা সর্বপ্রথম বীরপ্রতীক খেতাব পান?
— ক্যাপটেন সেতারা বেগম।
৯. বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ২জন মহিলা কোন বাহিনীর?
— ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম (সেনাবাহিনী) এবং ২. তারামন বিবি (গণবাহিনী-১১ নং সেক্টর)। সেতারা বেগমকে ঐ সময় চিহ্নিত করা হলেও তারামন বিবিকে ডিসেম্বর ‘৯৫-তে চিহ্নিত করা হয়।
১০. মুক্তিযুদ্ধে বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশীর নাম কী?
— অস্ট্রেলিয়ার এ. ডব্লিউ. এম. ওডারল্যান্ড। (প্রয়াত)
জেনে নিন : বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদ্যেপান্ত
১১. সর্বকনিষ্ঠ খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধার নাম কী?
— শহীদুল ইসলাম।
১২. বাংলাদেশের একমাত্র বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত উপজাতীয় মহিলা মুক্তিযোদ্ধার নাম কী?
— কাঁকন বিবি। আসল নাম কাঁকাত হেনিনচিতা। খাসিয়া সম্প্রদায়ের।
১২. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব কে করেছিলেন?
— মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক গ্রুপ ক্যাপটেন এ. কে. খন্দকার।
৬ জুন ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দন্ডিত ৪ খুনি্কে বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
খেতাব বাতিল হওয়া ৪ জন হচ্ছেন
* লেফটেন্যান্ট কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম )
* লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এইচ. এম. নুর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
* লেফটেন্যান্ট এ. এইচ. এম. রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
* নায়েক সুবেদার উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)
⇒ চাকরির প্রস্তুতির জন্য এ জাতীয় সকল তথ্য পেতে এখানে ক্লিক করুন